Postal Vote BD App 2025 – প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট প্রদানের নিয়ম ও রেজিষ্ট্রেশন

Postal Vote BD App 2025 – প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোট প্রদানের নিয়ম ও রেজিষ্ট্রেশন

দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য ভোটদানের সহজ ব্যবস্থা। অবশেষে সেই প্রত্যাশা পূরণের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটদানে উৎসাহিত করতে ইসি চালু করেছে ‘Postal Vote BD’ নামে একটি মোবাইল অ্যাপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রযুক্তি-নির্ভর পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় ভোট দিতে পারবেন প্রবাসীরা।

আপনি যদি একজন প্রবাসী বাংলাদেশি হন এবং আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে চান, তবে এই প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপটি ডাউনলোড থেকে শুরু করে ভোট প্রদানের সম্পূর্ণ নিয়মকানুন এখানে ধাপে ধাপে আলোচনা করা হলো।

Vote BD অ্যাপ: কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

নির্বাচন কমিশনের তৈরি ‘Postal Vote BD’ অ্যাপটি মূলত প্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার একটি আধুনিক মাধ্যম। এই অ্যাপটির মাধ্যমে প্রবাসী ভোটাররা সহজেই অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারবেন এবং তাদের ব্যালট পেপার প্রাপ্তি ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফেরত পাঠানোর অগ্রগতি ট্র্যাক করতে পারবেন।

এক নজরে: এই অ্যাপটি কেবল নিবন্ধনের প্ল্যাটফর্ম। ভোটদান প্রক্রিয়াটি কিন্তু পোস্টাল ব্যালট পেপারের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে। অ্যাপটি পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও ট্র্যাক করার উপযোগী করে তুলেছে।



Postal Vote BD App 2025


পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে:

 * একটি নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর: অবশ্যই যে দেশ থেকে ভোট দিতে ইচ্ছুক, সেই দেশের সচল মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

 * একটি বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।

 * একটি বৈধ পাসপোর্ট (ঐচ্ছিক হলেও দেওয়া বাঞ্ছনীয়)।

 * একটি বৈধ ডাক ঠিকানা: বিদেশে যেখানে আপনি ব্যালট পেপার পেতে ইচ্ছুক, সেই ঠিকানাটি নির্ভুলভাবে দিতে হবে।



প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া

'Postal Vote BD' অ্যাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া বেশ সহজ এবং ব্যবহারকারী-বান্ধব (User-friendly)। আপনি খুব সহজেই এটি সম্পন্ন করতে পারবেন।

ক. অ্যাপ ডাউনলোড ও ভাষা নির্বাচন

 * প্রথমে আপনার স্মার্টফোনের Google Play Store / App Store থেকে ‘Postal Vote BD’ মোবাইল অ্যাপটি ডাউনলোড ও ইনস্টল করুন।

 * অ্যাপটি চালু করে আপনার সুবিধার্থে বাংলা অথবা ইংরেজি যেকোনো একটি ভাষা নির্বাচন করুন।


খ. নিবন্ধন শুরু ও তথ্য যাচাই

 * অ্যাপে নিবন্ধন শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশাবলী মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।

 * আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, মোবাইল নম্বর এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করুন।

 * অ্যাপের মাধ্যমে OTP (One Time Password), Liveliness (জীবন্ততা) যাচাই এবং NID তথ্য যাচাই করা হবে। এটি আপনার নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।

 * বিদেশে ব্যালট পেপার প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য আপনার ডাক ঠিকানাটি (Postal Address) নির্ভুলভাবে প্রদান করুন। এই ঠিকানাটিই আপনার ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা রাখবে।

> বিশেষ নোট: নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে প্রবাসীরা এই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ পাচ্ছেন। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।



পোস্টাল ব্যালট প্রাপ্তি ও ভোট প্রদানের নিয়ম

নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন আপনার তথ্যাদি যাচাই করবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার দেওয়া ঠিকানায় ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট পেপার প্রেরণ করবে।

ক. ব্যালট পেপার হাতে পাওয়া:

 * নিবন্ধিত ভোটারগণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে তাঁদের বিদেশে দেওয়া ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালটসহ একটি খাম পাবেন।

 * খামটি হাতে পাওয়ার পর সাথে সাথেই অ্যাপে লগইন করে খামের উপর দেওয়া QR কোডটি স্ক্যান করুন। এটি সিস্টেমে নিশ্চিত করবে যে আপনি ব্যালট পেপারটি হাতে পেয়েছেন। অ্যাপের মাধ্যমে আপনি ব্যালট ডেলিভারির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।


খ. ভোট প্রদান:

 * খামের ভেতরে একটি পোস্টাল ব্যালট পেপার, ভোট প্রদানের নির্দেশাবলী ও একটি ঘোষণাপত্র সম্বলিত পৃথক কাগজ এবং রিটার্নিং অফিসারের ঠিকানাসহ একটি ফেরত খাম থাকবে।

 * ভোটার হিসেবে আপনি আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট প্রদান করে, প্রদত্ত ভোটসহ ব্যালট পেপারটি নির্ধারিত পদ্ধতিতে ফেরত খামে ভরে সিল করে দেবেন।


গ. ব্যালট ফেরত পাঠানো:

 * ভোট দেওয়া সম্পন্ন হলে সেই ফেরত খামটি ন্যূনতম বিলম্বের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে ডাকযোগে দ্রুত প্রেরণ করতে হবে।

রিটার্নিং অফিসার ডাকযোগে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটের খামসমূহ স্ক্যান করে প্রাপ্তি রেকর্ড করবেন এবং নির্ধারিত সময়ে গণনা করবেন।


Postal Vote BD App 2025



আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ

এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে আপনার যদি কোনো জিজ্ঞাসা থাকে বা কোনো প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া যোগাযোগের ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন।

 * ইমেইল: info@ocv.gov.bd

 * যোগাযোগ (হটলাইন): +8809610000105



Postal Vote BD অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটদানের সুযোগ নিশ্চিত করা একটি বিশাল অগ্রগতি। এর মাধ্যমে বিদেশে থেকেও দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে পারবেন লক্ষ লক্ষ প্রবাসী। নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগ সফল করতে প্রতিটি প্রবাসী ভোটারের সঠিক সময়ে নিবন্ধন ও নির্ভুল তথ্য প্রদান একান্ত কাম্য।

আপনারা যারা এখনো নিবন্ধন করেননি, তারা দ্রুত অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করুন।


Postal Vote BD App 2025 Registration সম্পর্কিত কিছু নির্দেশনা:

১) OTP দেরি: অনেক সময় OTP আসতে ৫ মিনিটের বেশি লাগে। এ ক্ষেত্রে আবার চেষ্টা করুন।

২) পাসপোর্ট নাম্বার সমস্যা: যাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট এক্সপায়ার্ড, তারা “পাসপোর্ট নাই” ঘরে টিক দিন। কারণ সিস্টেমে ২০২৫ সালের আগের কোনো বছর সিলেক্ট করা যায় না।

৩) ইমেইলে OTP: ফোন নম্বর অ্যাকটিভ না থাকলে ইমেইলের মাধ্যমেও OTP গ্রহণ করা যায়।

৪) ভাষা অপশন: ইংরেজিতে সমস্যা হলে অ্যাপটি বাংলায় ব্যবহার করতে পারবেন।

৫) NID প্রস্তুত রাখুন: প্রথমে আপনার NID কার্ডের ছবি তুলতে হয়, এরপর নিজের ছবি আপলোডের অপশন আসে—তাই NID পাশে রাখুন।

৬) এড্রেস ফিল্ড: ঠিকানার প্রথম ঘরে ব্লক বা ফ্লোর নম্বর চাই। এটি অপশনাল হলে ভালো হতো, কারণ অনেকের প্রাইভেট বাড়ি যেখানে ফ্লোর নম্বর থাকে না। সিস্টেম Next না দিলে আমি “,” দিয়ে এগিয়েছি।


সম্মানিত প্রবাসী ভোটারগণের জন্য Postal Vote BD মোবাইল অ্যাপের নিবন্ধনকালীন ২৪/৭ সহায়তা হটলাইন নম্বরসমূহ:

WhatsApp + Imo: +8801335149920, +8801335149923-32, +8801777770562

Botim: +8801335149927, +8801335149929-30, +8801777770562


https://www.mybdresults24.com/ এর সাথে থাকুন, আমরা নির্বাচন সংক্রান্ত সকল নতুন তথ্য আপনাদের কাছে পৌঁছে দেব।



সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

এখানে Postal Vote BD App 2025 এবং প্রবাসী ভোটদান সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হলো:

১. Postal Vote BD অ্যাপ ব্যবহার করে কি সরাসরি ভোট দেওয়া যায়?

উত্তর: না। Postal Vote BD অ্যাপটি মূলত পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধনের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। অ্যাপটি ব্যবহার করে আপনি অনলাইনে আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন এবং ব্যালট পেপার প্রাপ্তির আপডেট জানতে পারবেন। ভোটটি আপনাকে ডাকযোগে আসা পোস্টাল ব্যালট পেপারেই ম্যানুয়ালি দিতে হবে।

২. পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনের সময়সীমা কতদিন?

উত্তর: সাধারণত নির্বাচন কমিশন নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে নিবন্ধনের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) ঘোষণা করে থাকে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ১৮ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীকে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।

৩. প্রবাসী ছাড়াও আর কারা এই অ্যাপ ব্যবহার করে পোস্টাল ভোটে অংশ নিতে পারবেন?

উত্তর: বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটার ছাড়াও নিম্নলিখিত ব্যক্তিরা এই অ্যাপ ব্যবহার করে পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করতে পারবেন:

 * নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তারা।

 * আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

 * ভোট কার্যক্রমের সাথে যুক্ত অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

 * নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য যোগ্য ভোটাররা।

৪. ব্যালট পেপার পাওয়ার পর, সেটি রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফেরত পাঠাতে কত টাকা খরচ হবে?

উত্তর: ভোট দেওয়ার পর পোস্টাল ব্যালট পেপারটি ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে ফেরত পাঠানোর খরচ আবেদনকারী (ভোটার) নিজেই বহন করবেন। এই খরচ স্থানভেদে ভিন্ন হতে পারে।

৫. যদি আমার NID কার্ড হাতে না থাকে বা কেবল একটি প্রিন্টেড কপি থাকে, তাহলে কি নিবন্ধন করতে পারব?

উত্তর: হ্যাঁ, পারবেন। নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল বা প্রিন্ট কপি দু'টিই গ্রহণযোগ্য। যদি আপনার NID-র অনুমোদিত লেখা (pending status) থাকে বা কপি হাতে না থাকে, তবে নির্বাচন কমিশনের \text{[https://services.nidw.gov.bd](https://services.nidw.gov.bd)} ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার কপিটি পেতে পারেন।

উত্তর: বিদেশে ব্যালট পেপার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নির্ভুল ঠিকানা প্রদান অপরিহার্য। যদি কেউ অ্যাপে ভুল বা মিথ্যা তথ্য দেন, তবে নির্বাচন কমিশন এটিকে অঙ্গীকার ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে।


Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url